সাবেক ইউএনও রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ সুশীল সমাজ


Bangla Prime প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন / ১০০০
সাবেক ইউএনও রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ সুশীল সমাজ

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের দাবি—একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর সততা ও কর্মদক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পালনকালে রুমানা আফরোজ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি নিয়মিত প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজের মান সন্তোষজনক হলে তবেই বিল অনুমোদন করতেন। এতে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পেরে একটি অসাধু চক্র তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে, বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ২ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও স্থানীয়রা একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

দায়িত্বকালে রুমানা আফরোজ একজন জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি পান। সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁর দপ্তরে গিয়ে সমস্যার কথা জানাতে পারতেন। পাশাপাশি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত তদারকি করতেন।

এ ছাড়া শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি সংবাদ প্রকাশ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রুমানা আফরোজ বলেন, তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—এমন প্রমাণ দিতে পারলে তিনি যে কোনো পরিণতি মেনে নিতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, দায়িত্বে থাকাকালে কোনো মাসিক সভা বা জনসমক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বলেন, একজন সৎ কর্মকর্তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।