
কুবি প্রতিনিধি : মো. সামিউল ইসলাম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদলের এক নেতা ও এক কর্মী একে অপরের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) দায়ের করা পৃথক দুটি অভিযোগপত্রের অনুলিপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
অভিযোগে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল বাশার উল্লেখ করেন, ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি ও তার নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। কিছু শিক্ষার্থী ছাত্রদল পরিচয়ে অতিথিদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গেলে তিনি বাধা দেন। পরে তারা বার্ডের নতুন গেস্ট হাউজে গিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় এবং অশোভন আচরণ করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইমুন সরকার হস্তক্ষেপ করেন। কিন্তু একই দিন দুপুরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হাসান আহমেদ হৃদয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ‘হত্যার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে পোস্ট দেন এবং সাংবাদিকদের কাছেও ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রদান করেন।
আবুল বাশার বলেন, “হৃদয় আহমেদ আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন, যা আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানায় অভিযোগ করেছি।”
অপরদিকে, মো. হাসান আহমেদ হৃদয় পাল্টা অভিযোগে দাবি করেন, তিনি উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে বার্ডে গিয়ে সেলফি তোলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আবুল বাশার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং নিজেকে সভাপতি পদপ্রার্থী পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন।
হৃদয়ের ভাষ্য, “বাশার ভাই আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। উল্টো তিনি আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, অভিযোগ দুটি তদন্তের জন্য কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসআই টিটু কুমার নাথ বলেন, “থানা থেকে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগপত্র এখনো হাতে পাইনি। পেলে তদন্ত শুরু করা হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :