সরকারি দল আর বিরোধী দল আমরা এক পক্ষের লোক: নুরুল হক নুর


Bangla Prime প্রকাশের সময় : মার্চ ১৭, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ন / ১০০০
সরকারি দল আর বিরোধী দল আমরা এক পক্ষের লোক: নুরুল হক নুর

আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘প্রায় এক মাস হয়েছে একটা নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারি দল বিরোধী দল, সবাই বলা চলে আমরা এক পক্ষের লোক। গত ১৬ বছর আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি– বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।’

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেছেন, দেড় বছর আগে অর্থাৎ ৫ আগস্টের পূর্বে আমার নিজ জেলায় আসার মতো নিরাপদ পরিবেশ ছিল না।সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ পার্কে পটুয়াখালী জেলা গণঅধিকার পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, ‘মানুষের অধিকার আদায় করতে গিয়ে আমরা নির্যাতিত-নিষ্পেষিত হয়েছি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হয়রানি হয়েছে নির্যাতিত হয়েছে। আমি এমপি এবং মন্ত্রী হয়েছি, তবে ৫ আগস্টের আগে এই নিজের জেলায় আসার মতো নিরাপদ অবস্থা ছিল না।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিলেন, দেশে আসতে পারেননি। তারেক রহমান নির্যাতিত হয়েও আপস করেননি। ২৪ সালের নির্বাচনে যদি আপস করতেন বিরোধী দল হবেন, তাহলে তিনি দেশে আসতে পারতেন।

‘তার ভাই মারা গেছে, লাশটাও দেখতে পারেননি। তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া আপস না করে জেলে গেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি আপস করেননি। ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আল্লাহ আছেন।’

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। সুশাসনের জন্য, আমরা কথা বলেছি মানুষের অধিকার নিয়ে। সেই কথা বলতে গিয়ে আমরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছি। আজকে আমি এমপি হয়েছি এখানে প্রতিমন্ত্রী হয়েছি, দেড় বছর আগে চিন্তা করলে মানে ৫ই আগস্টের পূর্বে আমার জেলায় আসার মতো নিরাপদ পরিবেশ আমার জন্য ছিল না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ১৭টা বছর দেশের বাইরে ছিলেন, দেশে আসতে পারেননি। তিনি কমপ্রোমাইজ করেননি। তিনি যদি কম্প্রোমাইজ করতেন, এমনকি ২৪ এর নির্বাচনেও যদি কম্প্রোমাইজ করতেন, যে বিরোধী দল হবে তাহলেও তিনি দেশে আসতে পারতেন। তার আপন ভাই দেশের বাইরে মারা গেছে, লাশটা দেখতে পারেননি। তার মা আপোষহীন নেত্রী কম্প্রোমাইজ করেন নাই বিধায় জেলে গেছেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে ফ্যাসিবাদের সাথে আপোষ করেন নাই।

তিনি বলেন, ৫ তারিখের পরে অলিখিতভাবেই কিন্তু দেশের নেতা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তারেক রহমান কিন্তু বিদেশে বসেও ৫ তারিখের আগে এবং পরে দেশের মানুষকে একত্র রাখার জন্য কাজ করে গেছেন। এজন্যই এদেশের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট দিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে নুর বলেন, আজকে ৫৮টি জেলায় একই দিনে খাল খনন কর্মসূচি ছিল। তার পূর্বে ফ্যামিলি কার্ড, মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনদের বেতন দিয়েছেন। সরকার যে জনবান্ধবমুখী এবং জনকল্যাণমুখী চিন্তা করছে, সেটার প্রমাণ ১ মাসে তিনটি বৃহৎ প্রকল্প। এটা অস্বাভাবিক যে, একই সাথে তিনটি বৃহৎ পরিকল্পনার দিকে হাটা এবং বাস্তবায়ন করা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী করে দেখিয়েছেন। আমরা তার সাথে থেকে তিনি যে নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে চাই।

বিভিন্ন দলের সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কেবিনেট মিটিংয়েও আমাদের যে ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে তিনি দল দেখতে চান না। যেখানে যারা জনপ্রতিনিধি আছেন, তারা সেখানেই কাজ করবেন এবং জনগণের জন্য যারা কাজ করবে; তাদেরকে সরকার সহযোগিতা করবে। সুতরাং, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে যারা আছেন, তারা সবাই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দল মত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে কাজ করবেন।’

ইফতার মাহফিলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।